কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলা সংক্রান্ত আসন্ন চলচ্চিত্র ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লেগাসি’ নিয়ে আইনি লড়াইয়ের মাঝেই মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকায় একটি ছয় তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন পেয়েছেন বলিউড অভিনেতা সালমান খান।
এর ফলে তিনি সপরিবারে নতুন এই বাড়িটিতে স্থানান্তরিত হতে যাচ্ছেন বলে জোরালো গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
জানা গেছে, মহারাষ্ট্র কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট অথরিটি গত ১৬ জুন সালমান খানের এই ছয় তলা ভবন নির্মাণের প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে। তবে স্থানান্তরের বিষয়ে অভিনেতা বা তার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন সম্পত্তিটি বান্দ্রার চিম্বাই এলাকায় অবস্থিত, যা ১৯৭৪ সাল থেকে সালমানের পরিবারের বর্তমান বাসস্থান গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট-এর বেশ কাছাকাছি। নতুন জমিটি মা সালমা খানের নামে কিনেছেন অভিনেতা।
এদিকে, নতুন এই আবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যেই সালমান খান তার জীবনী ও আইনি বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হিন্দি সিনেমা ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লেগাসি’র মুক্তি ও প্রচারণা বন্ধের জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি দিল্লি হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
সালমানের অভিযোগ, তার অনুমতি ছাড়াই এই চলচ্চিত্রে ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলা এবং গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক বিরোধের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অভিনেতার আইনি দলের মতে, এটি তার ব্যক্তিগত ও প্রচারণার অধিকার ক্ষুণ্ণ করে এবং এর টিজার ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম তার সুনামের ক্ষতি করতে পারে।
প্রসঙ্গত, ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লেগাসি’ সিনেমাটিকে সালমান খানের ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি একটি অননুমোদিত ক্রাইম-থ্রিলার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
রাজস্থানে ‘হাম সাথ-সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন সালমান খানের বিরুদ্ধে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনাটি বছরের পর বছর ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়া এবং গণমাধ্যমে ব্যাপক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বিশেষ করে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মানুষ এর তীব্র সমালোচনা করেন, কারণ তারা কৃষ্ণসার হরিণকে অত্যন্ত পবিত্র ও পূজনীয় মনে করেন।
চলমান এই আইনি জটিলতার কারণে সোনু মিশ্রসহ বেশ কয়েকজন অভিনেতা ইতোমধ্যে ‘কালা হিরণ’ সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।


